ওহে

উড়বে বলে তুমি, আমার রাগি ঘোড়া, পুরনো বন্ধু ওহে, দাঁড়ালে এসে–
ফ্লাইওভারের চূড়োয়।
কান ছুঁয়ে তোমার, নিঃশ্বাসের ঘ্রাণ ছুঁয়ে তোমার, স্বপ্নক্লান্ত চোখের কোণ ছুঁয়ে
সাঁই সাঁই উড়ে গেলো কতো তাগড়া লোকাল বাস, কতো অটোরিক্সা
ও প্রাইভেট কার :
তাদের সবার ভেতরে ছিলো কিছু স্বপ্নবাজ ও স্বপ্নমৃত মানুষ।
প্রত্যেক মানুষের ছিলো একটা মন ও অসংখ্য সত্তা;
তুমিই কেবল এক মন ও এক সত্তার অন্ধ ঘোড়া,
এই ধূলি ও হিংস্রতাক্রান্ত শহরের বেমানান বাসিন্দা,
পারলে না ছুঁটতে বেদম, শিখলে না উড়ালের কোনো সহজ কৌশল…

আমিও তোমার মতোই, ঘুরে-থেকে শহরে বহুদিন, এখনও–
হইনি নাগরিক ঠিকঠাক;
এখনও জানিনি জ্যাম-ধূলি-লোডশেডিং ও অবিশ্বাসের পাঠশালায়
বিক্ষিপ্ত মানুষ কী করে শিখে নেয় টিকে থাকার জাদুময় পাঠ

আমি তো চুমু ও চায়ের টানে, প্রেম ও মায়াবী ইশারায় এক ফুঁয়ে–
উড়িয়ে দিয়ে সমস্ত দিন
করেছি মুখস্ত এই লাইন– চলে যাওয়া সময় ফিরে না আর,
তাই
গেলে হারিয়ে, আমিও তো ফিরবো না আবার। তবু–
যখন তুমি নিলে ইউটার্ন, দাঁড়ালে ঘুরে, তোমার জায়গায় দাঁড়িয়েছি এসে;
দেখি–
ওহে ঘোড়া,
ওহে বন্ধু আমার,
যাচ্ছো ফিরে তুমি আস্তাবলের একঘেয়ে বিছানায়; তাই বলে একা আমি, তাতে কী?
তোমার তেজ দাও, দাও অন্ধ ক্রোধ,
দেবো ঝাঁপ, দেবো উড়াল; দেখবো–
এতো ভীড়, চিৎকার ও যন্ত্রণার ভেতর
আমার শহর কেমন গায় অরণ্যের গান…


Leave a Reply